img

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। 

তার দল পিটিআই দাবি করেছে, ইমরান খান চোখের একটি জটিল রোগে ভুগছেন যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে তাকে স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই তাকে অত্যন্ত গোপনে কারাগার থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পিটিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাবন্দি ইমরান খানের ডান চোখে ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ নামক সমস্যা ধরা পড়েছে। এটি মূলত চোখের রেটিনার রক্তনালীতে একটি বিপজ্জনক ব্লকেজ। দলের দাবি, জেলখানায় তাকে পরীক্ষা করা চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত চিকিৎসা না পেলে তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিটিআই অভিযোগ করেছে যে ইমরান খানকে অত্যন্ত গোপনে আদিয়ালা জেল থেকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময় তার পরিবার বা দলীয় নেতৃত্ব—কাউকেই কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি কয়েক মাস ধরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে। দলটির দাবি, গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং তথ্য গোপন করা আন্তর্জাতিক বন্দি অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারাড় এই উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইমরান খানের চোখের একটি ছোট অস্ত্রোপচার বা ‘মেডিকেল প্রসিডিউর’ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, চিকিৎসকদের পরামর্শে গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ইমরান খানের লিখিত অনুমতি নিয়েই ২০ মিনিটের একটি সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তাকে পুনরায় আদিয়ালা জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানের আইনজীবী এবং দলের নেতারা দাবি করেছেন, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে নিঃসঙ্গ কারাবাসে রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পিটিআই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, ইমরান খানকে তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং অবিলম্বে পরিবার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে তাকে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর